পেঁপে গাছে কত সার লাগে? (গাছপ্রতি)
গর্তে ও প্রতিটি উপরি প্রয়োগের জন্য ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি, বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ থেকে।
সংক্ষেপে উত্তর
বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী একটি পেঁপে গাছে পুরো ফসলের জন্য প্রায় ৬০৯ গ্রাম ইউরিয়া, ৫৯৮ গ্রাম টিএসপি ও ৫৬২ গ্রাম এমওপি লাগে, সাথে রোপণের গর্তে ১৫ কেজি জৈব সার। টিএসপি গর্তেই দেওয়া হয়; ইউরিয়া ও এমওপি পরে ৬ বার উপরি প্রয়োগে যায়।
প্রতি গাছে পুরো ফসলের জন্য মাত্রা: গর্তে গোড়ার সার ও ছয়বার উপরি প্রয়োগ।
ধাপ অনুযায়ী মাত্রা
প্রথম সারি রোপণের গর্তের জন্য, এরপরের সারিগুলো ক্রমানুসারে উপরি প্রয়োগ, আর শেষ সারি পুরো ফসলের মোট। সংখ্যাগুলো গাছপ্রতি গ্রাম।
ফলনের লক্ষ্য প্রায় ১৬৭ মণ প্রতি বিঘায় (১ মণ = ৪০ কেজি)
এই গ্রুপের জাত: বারি পেঁপে-১।
| ধাপ | ইউরিয়া (গ্রাম) | টিএসপি (গ্রাম) | এমওপি (গ্রাম) | জৈব সার (কেজি) | সালফার, জিংক, বোরন (গ্রাম) |
|---|---|---|---|---|---|
| পুরো ফসল (গর্ত ও সব উপরি প্রয়োগ মিলিয়ে) | ৬০৯ | ৫৯৮ | ৫৬২ | ১৫ | ৬০ · ৩ · ৫ |
| রোপণের আগে (গর্তে) | ০ | ৫৯৮ | ০ | ১৫ | ৬০ · ৩ · ৫ |
| ১ নম্বর উপরি প্রয়োগ | ৭৬ | ০ | ৭০ | – | – |
| ২ নম্বর উপরি প্রয়োগ | ৭৬ | ০ | ৭০ | – | – |
| ৩ নম্বর উপরি প্রয়োগ | ৮৭ | ০ | ৮০ | – | – |
| ৪ নম্বর উপরি প্রয়োগ | ১৩০ | ০ | ১২১ | – | – |
| ৫ নম্বর উপরি প্রয়োগ | ১৩০ | ০ | ১২১ | – | – |
| ৬ নম্বর উপরি প্রয়োগ | ১০৯ | ০ | ১০০ | – | – |
প্রথম উপরি প্রয়োগ চারা রোপণের ৩০ দিন পর, তারপর শেষ ফল তোলার দুই মাস আগ পর্যন্ত প্রতি ৩০ দিন পরপর।
সূত্র: বিএআরসি, সার সুপারিশ গাইড ২০২৪, পৃষ্ঠা ১১৬।
টিএসপির বদলে ডিএপি দিলে
ডিএপিতে টিএসপির সমান ৪৬% ফসফেট আছে, তাই টিএসপির সংখ্যাটাই ডিএপির জন্য নিন। ডিএপিতে ১৮% নাইট্রোজেনও থাকে (প্রতি কেজি ডিএপিতে প্রায় ০.৪ কেজি ইউরিয়া বাঁচে)। গাইড এবং এই ছক সেটি বাদ দেয় না; চাইলে আপনি ইউরিয়া থেকে কমিয়ে নিতে পারেন।
এই সংখ্যাগুলো কীভাবে হিসাব করা হয়
বিএআরসির গাইডে প্রতিটি বয়সের জন্য গাছপ্রতি নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) ও পটাশিয়াম (K) গ্রামে দেওয়া। আমরা P-কে P₂O₅ (× ২.২৯) ও K-কে K₂O (× ১.২১) এ বদলে বস্তার ভেতরের মান দিয়ে ভাগ করি: ইউরিয়ায় ৪৬% N, টিএসপিতে ৪৬% P₂O₅, এমওপিতে ৬০% K₂O। গাইডের পরিমাণ পুরো বছরের জন্য; “কখন দেবেন” অংশের মতো ভাগ করে দিন।
এগুলো সুস্থ ও যত্নে রাখা গাছের জন্য গাইডের সাধারণ মাত্রা, আপনার বাগানের জন্য নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন নয়। মাটি, জাত, বৃষ্টি ও গাছে কত ফল ধরে তার ওপর প্রয়োজন বদলায়। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বা উদ্যান কর্মকর্তার সাথে মিলিয়ে নিন।
আপনার বাগানের জন্য হিসাব করুন
ফসল, গাছের বয়স ও কতটি গাছ আছে তা বাছুন, কত কেজি ও কত বস্তা সার কিনতে হবে জেনে নিন, সাথে শেয়ার করার পিডিএফ।
সার ক্যালকুলেটর খুলুনসার ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রশ্ন
পেঁপে গাছে কত ইউরিয়া লাগে?
বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী পুরো ফসলে গাছপ্রতি প্রায় ৬০৯ গ্রাম ইউরিয়া, ৬ বার উপরি প্রয়োগে। প্রতিবারের পরিমাণ ওপরের ছকে আছে।
পেঁপে গাছে কত টিএসপি ও এমওপি লাগে?
বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী পুরো ফসলে গাছপ্রতি প্রায় ৫৯৮ গ্রাম টিএসপি (সবটাই রোপণের গর্তে) ও ৫৬২ গ্রাম এমওপি (উপরি প্রয়োগে)।
পেঁপে গাছে কখন সার দিতে হয়?
প্রথম উপরি প্রয়োগ চারা রোপণের ৩০ দিন পর, তারপর শেষ ফল তোলার দুই মাস আগ পর্যন্ত প্রতি ৩০ দিন পরপর।
অন্য ফসলের সারের মাত্রা
- বোরো ধান
- আউশ ধান
- রোপা আমন ধান
- বোনা আমন ধান
- গম
- ভুট্টা
- মসুর
- ছোলা
- মুগ
- মাষকলাই
- সরিষা (জুনসিয়া, নাপাস)
- সরিষা (টরি)
- তিল
- চিনাবাদাম
- সয়াবিন
- আলু
- মিষ্টি আলু
- ফুলকপি
- বাঁধাকপি
- টমেটো
- টমেটো (গ্রীষ্মকালীন)
- ঢেঁড়শ
- মূলা
- করলা
- শসা
- রসুন
- আদা
- হলুদ
- মরিচ
- যব
- চীনা
- কাউন
- পাট (দেশি পাট)
- পাট (তোষা পাট)
- কেনাফ
- মেস্তা
- তুলা
- খেসারি
- ফেলন
- সূর্যমুখী
- কুসুম
- তিসি
- গুজি তিল
- মুখীকচু
- ব্রকলি
- চায়না কপি
- বাটিশাক
- কলমি শাক
- পালংশাক
- ডাঁটাশাক
- শিম
- বরবটি
- ঝাড়শিম
- মটরশুঁটি
- মিষ্টিকুমড়া
- চালকুমড়া
- কাঁকরোল
- পটল
- ধুন্দুল
- স্কোয়াশ
- মিষ্টি মরিচ (ক্যাপসিকাম)
- গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ
- ধনিয়া
- কালোজিরা
- মেথি
- আনারস
- স্ট্রবেরি
- তরমুজ
- ক্যান্টালুপ (নেটেড মেলন)
- আখ
- সুগার বিট
- পান
- গাঁদা
- গোলাপ
- রজনীগন্ধা
- গ্ল্যাডিওলাস
- চন্দ্রমল্লিকা
- অর্কিড
- জিপসোফিলা
- নেপিয়ার ঘাস
- পারা ঘাস
- জার্মান ঘাস
- ধল ঘাস
- গিনি ঘাস
- জাম্বো (হাইব্রিড সরগাম)
- রোজি ঘাস
- ভুট্টা (পশুখাদ্য)
- ওট (পশুখাদ্য)
- গোলমরিচ
- আম
- কাঁঠাল
- কলা
- পেয়ারা
- নারিকেল
- লিচু
- বাতাবি লেবু
- কমলা
- মাল্টা
- লেবু
- সাতকরা
- বরই (কুল)
- আমড়া
- সফেদা
- কামরাঙ্গা
- জাম
- লটকন
- আমলকী
- জামরুল
- বেল
- কদবেল
- আতা
- শরীফা
- বিলাতি গাব
- তেঁতুল
- চালতা
- ড্রাগন ফল
- লংগান
- কাজুবাদাম
- অরবরই
- ডুমুর
- জলপাই
- তাল
- সুপারি