জাম্বো (হাইব্রিড সরগাম): বিঘা প্রতি কত সার লাগে?
মাটির উর্বরতা অনুযায়ী ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপির মাত্রা, বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ থেকে।
সংক্ষেপে উত্তর
জাম্বো (হাইব্রিড সরগাম)-এর জন্য বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী মধ্যম উর্বরতার মাটিতে বিঘা প্রতি প্রায় ১৬ কেজি ইউরিয়া, ৫.৩ কেজি টিএসপি ও ৩ কেজি এমওপি (পটাশ) লাগে। কম উর্বর মাটিতে বিঘা প্রতি প্রায় ২৭ কেজি ইউরিয়া, ৮.৭ কেজি টিএসপি ও ৪.৮ কেজি এমওপি লাগে। সমৃদ্ধ মাটিতে (অপটিমাম) কম লাগে: প্রায় ৫.৪ কেজি ইউরিয়া, ১.৭ কেজি টিএসপি ও ০.৯ কেজি এমওপি।
মাটির স্তর অনুযায়ী মাত্রা
আপনার মাটি পরীক্ষার রিপোর্টের স্তরের সারিটি দেখুন। মাটি পরীক্ষা করা না থাকলে “মধ্যম” সারিটি দেখুন। প্রতিটি ঘরে গাইডের দেওয়া সীমা আছে: মাটি পরীক্ষার মান ওঠানামা করলে মাত্রাও ওই সীমার মধ্যে বাড়ে-কমে।
মাটির স্তর অনুযায়ী মাত্রা
এই গ্রুপের জাত: হাইব্রিড জাম্বো।
| মাটির স্তর | ইউরিয়া | টিএসপি | এমওপি (পটাশ) |
|---|---|---|---|
| অপটিমাম | ০–১১ | ০–৩.৩ | ০–১.৯ |
| মধ্যম | ১১–২২ | ৪–৬.৭ | ২.১–৩.৮ |
| নিম্ন | ২২–৩২ | ৭.৩–১০ | ৪–৫.৬ |
| খুব নিম্ন | ৩৩–৪৩ | ১১–১৩ | ৫.৯–৭.৫ |
| মাটির স্তর | ইউরিয়া | টিএসপি | এমওপি (পটাশ) |
|---|---|---|---|
| অপটিমাম | ০–৩৩ | ০–১০ | ০–৫.৭ |
| মধ্যম | ৩৩–৬৫ | ১২–২০ | ৬.৫–১১ |
| নিম্ন | ৬৬–৯৮ | ২২–৩০ | ১২–১৭ |
| খুব নিম্ন | ৯৯–১৩০ | ৩২–৪০ | ১৮–২৩ |
গাইডের পরামর্শ অনুযায়ী ইউরিয়া (নাইট্রোজেন) ৩ বারে দিতে হবে: ২৫% + ২৫% + ৫০%।
সূত্র: বিএআরসি, সার সুপারিশ গাইড ২০২৪, পৃষ্ঠা ১৫৭।
এক শতকের জন্য বিঘার সংখ্যাটিকে ৩৩ দিয়ে ভাগ করুন। এক কাঠার জন্য ২০ দিয়ে ভাগ করুন।
টিএসপির বদলে ডিএপি দিলে
ডিএপিতে টিএসপির সমান ৪৬% ফসফেট আছে, তাই টিএসপির সংখ্যাটাই ডিএপির জন্য নিন। ডিএপিতে ১৮% নাইট্রোজেনও থাকে (প্রতি কেজি ডিএপিতে প্রায় ০.৪ কেজি ইউরিয়া বাঁচে)। গাইড এবং এই ছক সেটি বাদ দেয় না; চাইলে আপনি ইউরিয়া থেকে কমিয়ে নিতে পারেন।
এই সংখ্যাগুলো কীভাবে হিসাব করা হয়
বিএআরসির গাইডে প্রতিটি মাটির স্তরের জন্য হেক্টর প্রতি নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) ও পটাশিয়ামের (K) কেজি দেওয়া আছে। আমরা P-কে P₂O₅ (× ২.২৯) ও K-কে K₂O (× ১.২১) এ বদলাই, তারপর বস্তার উপাদান দিয়ে ভাগ করি: ইউরিয়ায় ৪৬% N, টিএসপিতে ৪৬% P₂O₅, এমওপিতে ৬০% K₂O। এক বিঘা ধরা হয়েছে ১৩৩৭.৮ বর্গমিটার (প্রায় ৩৩ শতক) এবং এক একর ১০০ শতক।
এগুলো গাইডের সাধারণ মাত্রা, আপনার জমির জন্য নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন নয়। সঠিক মাত্রা নির্ভর করে মাটি পরীক্ষা ও আপনার কৃষি-পরিবেশগত অঞ্চলের ওপর; গাইডে অপটিমাম পর্যন্ত মাটির মাত্রা আছে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সাথে মিলিয়ে নিন।
নিজের জমির হিসাব করুন
ফসল, মাটির স্তর আর জমির পরিমাণ (বিঘা, কাঠা বা শতক) দিন; কত কেজি ও কত বস্তা সার লাগবে সাথে সাথে পাবেন, সাথে সারের দোকানে দেখানোর জন্য পিডিএফ।
সার ক্যালকুলেটর খুলুনসার ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রশ্ন
জাম্বো (হাইব্রিড সরগাম) চাষে বিঘা প্রতি কত কেজি ইউরিয়া লাগে?
বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী মধ্যম উর্বরতার মাটিতে বিঘা প্রতি প্রায় ১৬ কেজি ইউরিয়া (সীমা ১১–২২ কেজি)। দুর্বল মাটিতে বেশি ও সমৃদ্ধ মাটিতে কম লাগে।
জাম্বো (হাইব্রিড সরগাম) চাষে বিঘা প্রতি কত কেজি টিএসপি ও এমওপি লাগে?
বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী মধ্যম উর্বরতার মাটিতে বিঘা প্রতি প্রায় ৫.৩ কেজি টিএসপি (সীমা ৪–৬.৭ কেজি) ও ৩ কেজি এমওপি (সীমা ২.১–৩.৮ কেজি)।
এই মাত্রা কি আমার জমির জন্য ঠিক?
এটি ভালো একটি শুরুর হিসাব, নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন নয়। মাত্রা নির্ভর করে আপনার মাটি পরীক্ষার ফল, জাতের গ্রুপ ও এলাকার ওপর। মাটি পরীক্ষার রিপোর্টের স্তরটি ব্যবহার করুন এবং স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সাথে মিলিয়ে নিন।
অন্য ফসলের সারের মাত্রা
- বোরো ধান
- আউশ ধান
- রোপা আমন ধান
- বোনা আমন ধান
- গম
- ভুট্টা
- মসুর
- ছোলা
- মুগ
- মাষকলাই
- সরিষা (জুনসিয়া, নাপাস)
- সরিষা (টরি)
- তিল
- চিনাবাদাম
- সয়াবিন
- আলু
- মিষ্টি আলু
- ফুলকপি
- বাঁধাকপি
- টমেটো
- টমেটো (গ্রীষ্মকালীন)
- ঢেঁড়শ
- মূলা
- করলা
- শসা
- রসুন
- আদা
- হলুদ
- মরিচ
- যব
- চীনা
- কাউন
- পাট (দেশি পাট)
- পাট (তোষা পাট)
- কেনাফ
- মেস্তা
- তুলা
- খেসারি
- ফেলন
- সূর্যমুখী
- কুসুম
- তিসি
- গুজি তিল
- মুখীকচু
- ব্রকলি
- চায়না কপি
- বাটিশাক
- কলমি শাক
- পালংশাক
- ডাঁটাশাক
- শিম
- বরবটি
- ঝাড়শিম
- মটরশুঁটি
- মিষ্টিকুমড়া
- চালকুমড়া
- কাঁকরোল
- পটল
- ধুন্দুল
- স্কোয়াশ
- মিষ্টি মরিচ (ক্যাপসিকাম)
- গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ
- ধনিয়া
- কালোজিরা
- মেথি
- আনারস
- স্ট্রবেরি
- তরমুজ
- ক্যান্টালুপ (নেটেড মেলন)
- আখ
- সুগার বিট
- পান
- গাঁদা
- গোলাপ
- রজনীগন্ধা
- গ্ল্যাডিওলাস
- চন্দ্রমল্লিকা
- অর্কিড
- জিপসোফিলা
- নেপিয়ার ঘাস
- পারা ঘাস
- জার্মান ঘাস
- ধল ঘাস
- গিনি ঘাস
- রোজি ঘাস
- ভুট্টা (পশুখাদ্য)
- ওট (পশুখাদ্য)
- গোলমরিচ
- আম
- কাঁঠাল
- কলা
- পেঁপে
- পেয়ারা
- নারিকেল
- লিচু
- বাতাবি লেবু
- কমলা
- মাল্টা
- লেবু
- সাতকরা
- বরই (কুল)
- আমড়া
- সফেদা
- কামরাঙ্গা
- জাম
- লটকন
- আমলকী
- জামরুল
- বেল
- কদবেল
- আতা
- শরীফা
- বিলাতি গাব
- তেঁতুল
- চালতা
- ড্রাগন ফল
- লংগান
- কাজুবাদাম
- অরবরই
- ডুমুর
- জলপাই
- তাল
- সুপারি