কাঁঠাল গাছে কত সার লাগে? (গাছপ্রতি)
গাছের প্রতিটি বয়সের জন্য ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি, বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ থেকে।
সংক্ষেপে উত্তর
বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী অল্প বয়সী কাঁঠাল গাছে (০–১ বছর) বছরে প্রায় ৩২৬ গ্রাম ইউরিয়া, ৩৭৪ গ্রাম টিএসপি ও ৩০১ গ্রাম এমওপি (পটাশ) লাগে। পূর্ণবয়স্ক গাছে (২০ বছরের বেশি) বছরে প্রায় ১,৭৩৯ গ্রাম ইউরিয়া, ১,৯৯২ গ্রাম টিএসপি ও ১,৫০৬ গ্রাম এমওপি লাগে। বছরের সারটুকু সমান ২ কিস্তিতে দিন: জুন–জুলাই এবং সেপ্টেম্বর–অক্টোবর।
বয়স অনুযায়ী মাত্রা
প্রথম কলামে আপনার গাছের বয়স খুঁজুন, রোপণের পর কত বছর হয়েছে সেই হিসাবে। সংখ্যাগুলো এক বছরে গাছপ্রতি গ্রাম; প্রথম সারিটি রোপণের গর্তের জন্য। বাগানের জন্য গাছের সংখ্যা দিয়ে গুণ করে ১,০০০ দিয়ে ভাগ করলে কেজি পাবেন, অথবা নিচের ক্যালকুলেটরে হিসাব করে নিন।
ফলনের লক্ষ্য প্রায় ১,০০০ কেজি ফল প্রতি গাছে (২০ বছরের বেশি বয়সী গাছের জন্য)
এই গ্রুপের জাত: বারি কাঁঠাল-১, বারি কাঁঠাল-২, বারি কাঁঠাল-৩, বারি কাঁঠাল-৪, বারি কাঁঠাল-৫, বারি কাঁঠাল-৬, বাউ কাঁঠাল-১।
| গাছের বয়স (বছর) | ইউরিয়া (গ্রাম) | টিএসপি (গ্রাম) | এমওপি (গ্রাম) | জৈব সার (কেজি) | সালফার, জিংক, বোরন (গ্রাম) |
|---|---|---|---|---|---|
| রোপণের আগে (গর্তে) | ০ | ৪৯৮ | ২৫১ | ২৫ | ৩৫ · – · – |
| ০–১ বছর বয়স | ৩২৬ | ৩৭৪ | ৩০১ | – | ২০ · ২ · – |
| ২–৪ বছর বয়স | ৫৪৩ | ৪৯৮ | ৫০২ | ১৫ | ৩০ · ৪ · – |
| ৫–৭ বছর বয়স | ৭৬১ | ৭৪৭ | ৭০৩ | ২০ | ৩৫ · ৪ · ২ |
| ৮–১০ বছর বয়স | ৯৭৮ | ৯৯৬ | ৯০৪ | ২৫ | ৪৫ · ৬ · ৪ |
| ১১–১৫ বছর বয়স | ১,৩০৪ | ১,৩৯৫ | ১,১০৫ | ৩০ | ৬০ · ৭ · ৫ |
| ১৬–২০ বছর বয়স | ১,৬৩০ | ১,৪৯৪ | ১,৩০৫ | ৩৫ | ৯০ · ৮ · ৮ |
| ২০ বছরের বেশি বয়স | ১,৭৩৯ | ১,৯৯২ | ১,৫০৬ | ৪০ | ১০০ · ১০ · ১০ |
সূত্র: বিএআরসি, সার সুপারিশ গাইড ২০২৪, পৃষ্ঠা ১১৫।
কখন দেবেন
চারা লাগানোর ১০–২০ দিন আগে গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে সেচ দিন।
বছরের সারটুকু সমান ২ কিস্তিতে দিন: জুন–জুলাই এবং সেপ্টেম্বর–অক্টোবর।
গাছের ডালপালার ছড়ানো সীমার নিচে, গোড়া থেকে কিছুটা ফাঁক রেখে সার দিন, মাটির সাথে মিশিয়ে সেচ দিন। অল্প বয়সী গাছেও একই সময়ে দিন, শুধু পরিমাণ কম।
টিএসপির বদলে ডিএপি দিলে
ডিএপিতে টিএসপির সমান ৪৬% ফসফেট আছে, তাই টিএসপির সংখ্যাটাই ডিএপির জন্য নিন। ডিএপিতে ১৮% নাইট্রোজেনও থাকে (প্রতি কেজি ডিএপিতে প্রায় ০.৪ কেজি ইউরিয়া বাঁচে)। গাইড এবং এই ছক সেটি বাদ দেয় না; চাইলে আপনি ইউরিয়া থেকে কমিয়ে নিতে পারেন।
এই সংখ্যাগুলো কীভাবে হিসাব করা হয়
বিএআরসির গাইডে প্রতিটি বয়সের জন্য গাছপ্রতি নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) ও পটাশিয়াম (K) গ্রামে দেওয়া। আমরা P-কে P₂O₅ (× ২.২৯) ও K-কে K₂O (× ১.২১) এ বদলে বস্তার ভেতরের মান দিয়ে ভাগ করি: ইউরিয়ায় ৪৬% N, টিএসপিতে ৪৬% P₂O₅, এমওপিতে ৬০% K₂O। গাইডের পরিমাণ পুরো বছরের জন্য; “কখন দেবেন” অংশের মতো ভাগ করে দিন।
এগুলো সুস্থ ও যত্নে রাখা গাছের জন্য গাইডের সাধারণ মাত্রা, আপনার বাগানের জন্য নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন নয়। মাটি, জাত, বৃষ্টি ও গাছে কত ফল ধরে তার ওপর প্রয়োজন বদলায়। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বা উদ্যান কর্মকর্তার সাথে মিলিয়ে নিন।
আপনার বাগানের জন্য হিসাব করুন
ফসল, গাছের বয়স ও কতটি গাছ আছে তা বাছুন, কত কেজি ও কত বস্তা সার কিনতে হবে জেনে নিন, সাথে শেয়ার করার পিডিএফ।
সার ক্যালকুলেটর খুলুনসার ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রশ্ন
কাঁঠাল গাছে কত ইউরিয়া লাগে?
বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী অল্প বয়সী গাছে (০–১ বছর) বছরে প্রায় ৩২৬ গ্রাম, আর পূর্ণবয়স্ক গাছে (২০ বছরের বেশি) প্রায় ১,৭৩৯ গ্রাম। গাছের বয়স বাড়লে মাত্রাও বাড়ে।
কাঁঠাল গাছে কত টিএসপি ও এমওপি লাগে?
বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী অল্প বয়সী গাছে (০–১ বছর) বছরে প্রায় ৩৭৪ গ্রাম টিএসপি ও ৩০১ গ্রাম এমওপি, আর পূর্ণবয়স্ক গাছে (২০ বছরের বেশি) প্রায় ১,৯৯২ গ্রাম টিএসপি ও ১,৫০৬ গ্রাম এমওপি।
কাঁঠাল গাছে কখন সার দিতে হয়?
বছরের সারটুকু সমান ২ কিস্তিতে দিন: জুন–জুলাই এবং সেপ্টেম্বর–অক্টোবর। ডালপালার ছড়ানো সীমার নিচে গাছের চারপাশে দিন, মাটির সাথে মিশিয়ে সেচ দিন।
অন্য ফসলের সারের মাত্রা
- বোরো ধান
- আউশ ধান
- রোপা আমন ধান
- বোনা আমন ধান
- গম
- ভুট্টা
- মসুর
- ছোলা
- মুগ
- মাষকলাই
- সরিষা (জুনসিয়া, নাপাস)
- সরিষা (টরি)
- তিল
- চিনাবাদাম
- সয়াবিন
- আলু
- মিষ্টি আলু
- ফুলকপি
- বাঁধাকপি
- টমেটো
- টমেটো (গ্রীষ্মকালীন)
- ঢেঁড়শ
- মূলা
- করলা
- শসা
- রসুন
- আদা
- হলুদ
- মরিচ
- যব
- চীনা
- কাউন
- পাট (দেশি পাট)
- পাট (তোষা পাট)
- কেনাফ
- মেস্তা
- তুলা
- খেসারি
- ফেলন
- সূর্যমুখী
- কুসুম
- তিসি
- গুজি তিল
- মুখীকচু
- ব্রকলি
- চায়না কপি
- বাটিশাক
- কলমি শাক
- পালংশাক
- ডাঁটাশাক
- শিম
- বরবটি
- ঝাড়শিম
- মটরশুঁটি
- মিষ্টিকুমড়া
- চালকুমড়া
- কাঁকরোল
- পটল
- ধুন্দুল
- স্কোয়াশ
- মিষ্টি মরিচ (ক্যাপসিকাম)
- গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ
- ধনিয়া
- কালোজিরা
- মেথি
- আনারস
- স্ট্রবেরি
- তরমুজ
- ক্যান্টালুপ (নেটেড মেলন)
- আখ
- সুগার বিট
- পান
- গাঁদা
- গোলাপ
- রজনীগন্ধা
- গ্ল্যাডিওলাস
- চন্দ্রমল্লিকা
- অর্কিড
- জিপসোফিলা
- নেপিয়ার ঘাস
- পারা ঘাস
- জার্মান ঘাস
- ধল ঘাস
- গিনি ঘাস
- জাম্বো (হাইব্রিড সরগাম)
- রোজি ঘাস
- ভুট্টা (পশুখাদ্য)
- ওট (পশুখাদ্য)
- গোলমরিচ
- আম
- কলা
- পেঁপে
- পেয়ারা
- নারিকেল
- লিচু
- বাতাবি লেবু
- কমলা
- মাল্টা
- লেবু
- সাতকরা
- বরই (কুল)
- আমড়া
- সফেদা
- কামরাঙ্গা
- জাম
- লটকন
- আমলকী
- জামরুল
- বেল
- কদবেল
- আতা
- শরীফা
- বিলাতি গাব
- তেঁতুল
- চালতা
- ড্রাগন ফল
- লংগান
- কাজুবাদাম
- অরবরই
- ডুমুর
- জলপাই
- তাল
- সুপারি