সার গাইড · বাংলাদেশ

গাঁদা: বিঘা প্রতি কত সার লাগে?

মাটির উর্বরতা অনুযায়ী ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপির মাত্রা, বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ থেকে।

সংক্ষেপে উত্তর

মধ্যম উর্বরতার মাটিতে গাঁদা চাষে বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী বিঘা প্রতি প্রায় ২০ কেজি ইউরিয়া, ২০ কেজি টিএসপি ও ১৬ কেজি এমওপি (পটাশ) লাগে; ফলনের লক্ষ্য প্রায় ৫০ মণ প্রতি বিঘা (একর প্রতি প্রায় ৬,০৭০ কেজি)। দুর্বল (নিম্ন) মাটিতে বেশি লাগে: প্রায় ৩৩ কেজি ইউরিয়া, ৩৪ কেজি টিএসপি ও ২৭ কেজি এমওপি। সমৃদ্ধ (অপটিমাম) মাটিতে কম লাগে: প্রায় ৬.৫ কেজি ইউরিয়া, ৬.৭ কেজি টিএসপি ও ৫.৪ কেজি এমওপি।

গাইডে এই ফসলের ২টি জাত-গ্রুপ আছে। ওপরের সংখ্যা গ্রুপ ১-এর (সবচেয়ে বেশি ফলনের লক্ষ্য); নিচের ছকে প্রতিটি গ্রুপ আছে।

দুটি ছক: আফ্রিকান গাঁদা ও ফ্রেঞ্চ গাঁদা।

মাটির স্তর অনুযায়ী মাত্রা

আপনার মাটি পরীক্ষার রিপোর্টের স্তরের সারিটি দেখুন। মাটি পরীক্ষা করা না থাকলে “মধ্যম” সারিটি দেখুন। প্রতিটি ঘরে গাইডের দেওয়া সীমা আছে: মাটি পরীক্ষার মান ওঠানামা করলে মাত্রাও ওই সীমার মধ্যে বাড়ে-কমে।

গ্রুপ ১ / ২ · ফলনের লক্ষ্য প্রায় ৫০ মণ প্রতি বিঘায় (১ মণ = ৪০ কেজি)

আফ্রিকান গাঁদা।

কেজি প্রতি বিঘায় (৩৩ শতক)
মাটির স্তরইউরিয়াটিএসপিএমওপি (পটাশ)
অপটিমাম০–১৩০–১৩০–১১
মধ্যম১৩–২৬১৪–২৭১১–২১
নিম্ন২৬–৩৯২৭–৪০২২–৩২
খুব নিম্ন৪০–৫২৪১–৫৩৩৩–৪৩
কেজি প্রতি একরে
মাটির স্তরইউরিয়াটিএসপিএমওপি (পটাশ)
অপটিমাম০–৪০০–৪০০–৩৩
মধ্যম৪০–৭৯৪২–৮১৩৩–৬৫
নিম্ন৮০–১১৯৮৩–১২১৬৬–৯৮
খুব নিম্ন১২০–১৫৮১২৩–১৬১৯৮–১৩০

গাইডের পরামর্শ অনুযায়ী ইউরিয়া (নাইট্রোজেন) ৩ বারে দিতে হবে: ৩৩% + ৩৩% + ৩৩%।

সূত্র: বিএআরসি, সার সুপারিশ গাইড ২০২৪, পৃষ্ঠা ১৪৯।

গ্রুপ ২ / ২ · ফলনের লক্ষ্য প্রায় ৩৩ মণ প্রতি বিঘায় (১ মণ = ৪০ কেজি)

ফ্রেঞ্চ গাঁদা (বারি গাঁদা-১)।

এই গ্রুপের জাত: বারি গাঁদা-১, ফ্রেঞ্চ গাঁদা।

কেজি প্রতি বিঘায় (৩৩ শতক)
মাটির স্তরইউরিয়াটিএসপিএমওপি (পটাশ)
অপটিমাম০–৮.৭০–৮.৭০–৮.১
মধ্যম৯–১৭৯.৩–১৭৮.৩–১৬
নিম্ন১৮–২৬১৮–২৬১৬–২৪
খুব নিম্ন২৬–৩৫২৭–৩৫২৪–৩২
কেজি প্রতি একরে
মাটির স্তরইউরিয়াটিএসপিএমওপি (পটাশ)
অপটিমাম০–২৬০–২৬০–২৪
মধ্যম২৭–৫৩২৮–৫২২৫–৪৯
নিম্ন৫৪–৭৯৫৪–৭৯৫০–৭৩
খুব নিম্ন৮০–১০৬৮১–১০৫৭৪–৯৮

গাইডের পরামর্শ অনুযায়ী ইউরিয়া (নাইট্রোজেন) ৩ বারে দিতে হবে: ৩৩% + ৩৩% + ৩৩%।

সূত্র: বিএআরসি, সার সুপারিশ গাইড ২০২৪, পৃষ্ঠা ১৪৮।

এক শতকের জন্য বিঘার সংখ্যাটিকে ৩৩ দিয়ে ভাগ করুন। এক কাঠার জন্য ২০ দিয়ে ভাগ করুন।

টিএসপির বদলে ডিএপি দিলে

ডিএপিতে টিএসপির সমান ৪৬% ফসফেট আছে, তাই টিএসপির সংখ্যাটাই ডিএপির জন্য নিন। ডিএপিতে ১৮% নাইট্রোজেনও থাকে (প্রতি কেজি ডিএপিতে প্রায় ০.৪ কেজি ইউরিয়া বাঁচে)। গাইড এবং এই ছক সেটি বাদ দেয় না; চাইলে আপনি ইউরিয়া থেকে কমিয়ে নিতে পারেন।

এই সংখ্যাগুলো কীভাবে হিসাব করা হয়

বিএআরসির গাইডে প্রতিটি মাটির স্তরের জন্য হেক্টর প্রতি নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) ও পটাশিয়ামের (K) কেজি দেওয়া আছে। আমরা P-কে P₂O₅ (× ২.২৯) ও K-কে K₂O (× ১.২১) এ বদলাই, তারপর বস্তার উপাদান দিয়ে ভাগ করি: ইউরিয়ায় ৪৬% N, টিএসপিতে ৪৬% P₂O₅, এমওপিতে ৬০% K₂O। এক বিঘা ধরা হয়েছে ১৩৩৭.৮ বর্গমিটার (প্রায় ৩৩ শতক) এবং এক একর ১০০ শতক।

এগুলো গাইডের সাধারণ মাত্রা, আপনার জমির জন্য নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন নয়। সঠিক মাত্রা নির্ভর করে মাটি পরীক্ষা ও আপনার কৃষি-পরিবেশগত অঞ্চলের ওপর; গাইডে অপটিমাম পর্যন্ত মাটির মাত্রা আছে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সাথে মিলিয়ে নিন।

নিজের জমির হিসাব করুন

ফসল, মাটির স্তর আর জমির পরিমাণ (বিঘা, কাঠা বা শতক) দিন; কত কেজি ও কত বস্তা সার লাগবে সাথে সাথে পাবেন, সাথে সারের দোকানে দেখানোর জন্য পিডিএফ।

সার ক্যালকুলেটর খুলুন

সার ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রশ্ন

গাঁদা চাষে বিঘা প্রতি কত কেজি ইউরিয়া লাগে?

বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী মধ্যম উর্বরতার মাটিতে বিঘা প্রতি প্রায় ২০ কেজি ইউরিয়া (সীমা ১৩–২৬ কেজি)। দুর্বল মাটিতে বেশি ও সমৃদ্ধ মাটিতে কম লাগে।

গাঁদা চাষে বিঘা প্রতি কত কেজি টিএসপি ও এমওপি লাগে?

বিএআরসির সার সুপারিশ গাইড ২০২৪ অনুযায়ী মধ্যম উর্বরতার মাটিতে বিঘা প্রতি প্রায় ২০ কেজি টিএসপি (সীমা ১৪–২৭ কেজি) ও ১৬ কেজি এমওপি (সীমা ১১–২১ কেজি)।

এই মাত্রা কি আমার জমির জন্য ঠিক?

এটি ভালো একটি শুরুর হিসাব, নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন নয়। মাত্রা নির্ভর করে আপনার মাটি পরীক্ষার ফল, জাতের গ্রুপ ও এলাকার ওপর। মাটি পরীক্ষার রিপোর্টের স্তরটি ব্যবহার করুন এবং স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সাথে মিলিয়ে নিন।

অন্য ফসলের সারের মাত্রা