মাছকে কত খাবার দেব?
পুকুরের চাষির জন্য বিনামূল্যের টুল, সরকারি নির্দেশনার ওপর দাঁড়ানো: পুকুর প্রস্তুতি, কয়টা পোনা, ফসলের বাজেট, আজকের খাবার, FCR ও লাভ। কোনো লগইন লাগে না।
বিটা: সংখ্যাগুলো সরকারি নির্দেশনা, প্রকাশিত টেবিল ও গবেষণা থেকে নেওয়া, কিন্তু কোনো মৎস্যবিজ্ঞানী এখনো যাচাই করেননি। শুরুর হিসাব হিসেবে নিন এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে মিলিয়ে নিন।
খাবারের হার ওজন অনুযায়ী প্রকাশিত টেবিল থেকে (FAO বা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়)।
আপনার পুকুরের আয়তন লিখুন, ধাপে ধাপে কী করবেন দেখতে পাবেন।
আপনার লেখা শুধু এই ফোনে থাকে। কোথাও পাঠানো হয় না।
সংখ্যা কীভাবে হিসাব হয়
দিনের খাবার = মাছের সংখ্যা × গড় ওজন × হার
খাবার হলো মাছের ওজনের একটি অংশ, আর মাছ বড় হলে সেই অংশ কমে। টুলটি মাছের সংখ্যা ও গড় ওজন নেয়, প্রকাশিত খাবারের টেবিল থেকে ওই ওজনের হার খুঁজে নেয়, তারপর গুণ করে।
উদাহরণ: ৫,০০০ তেলাপিয়া, প্রতিটি ৫০ গ্রাম, মোট ২৫০ কেজি। ৫০ গ্রামে FAO-র টেবিলে হার প্রায় ২.৬%, তাই দিনের খাবার প্রায় ৬.৬ কেজি, দুই বারে।
অন্যান্য মাছ
এটা প্রকাশিত টেবিল ও গবেষণা থেকে সাধারণ নির্দেশনা, চিকিৎসা-পরামর্শ নয়। পুকুরে রোগ হলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। টুলটি ওষুধের মাত্রা দেয় না।
পুকুরের চাষির যে নিয়মগুলো জানা দরকার
এগুলো ২০১০ সালের দুটি আইন থেকে। যে চাষি খাবার বা পোনা কেনেন আইনগুলো তাঁকে সুরক্ষা দেয়: টাকা দেওয়ার আগে মিলিয়ে নিন।
খাবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতার হতে হবে ও লেবেল থাকতে হবে
লাইসেন্স ছাড়া মাছের খাবার তৈরি, আমদানি বা বিক্রি করা যায় না (মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন ২০১০, ধারা ৪)। প্যাকেটে থাকতে হবে প্রস্তুতকারকের নাম ও দেশ, প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন নম্বর, প্রকৃত ওজন, উপকরণ ও পুষ্টি উপাদানের শতকরা হার, লট নম্বর, কোন মাছের খাবার, এবং উৎপাদন ও মেয়াদ শেষের তারিখ (ধারা ১৩)। এগুলো নেই এমন প্যাকেট কিনবেন না।
খাবারে অ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড বা কীটনাশক নিষিদ্ধ
মাছের খাবারে অ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড, কীটনাশক বা অন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকা নিষেধ (ধারা ১৪)। বিষাক্ত বা ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার তৈরি বা বিক্রি নিষেধ (ধারা ১২), আর পরীক্ষায় অনুপযোগী প্রমাণিত খাবার বাজেয়াপ্ত হয় (ধারা ১১)।
শাস্তি
খাদ্য আইন ভাঙলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড হতে পারে (ধারা ২০)।
নিবন্ধিত হ্যাচারি থেকে পোনা কিনুন
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার নিবন্ধন ছাড়া বাণিজ্যিক হ্যাচারি স্থাপন বা চালানো যায় না, আর প্রতি বছর নবায়ন করতে হয় (মৎস্য হ্যাচারি আইন ২০১০, ধারা ৪ ও ৫)। নিবন্ধন সনদ দেখতে চান।
সংকর মাছ ও আমদানি করা পোনা
সরকার-স্বীকৃত গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ মাছের সংকরায়ন করতে পারে না, আর মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়া সংকর মাছ চাষে ছাড়া যায় না (ধারা ৬)। পূর্বানুমোদন ছাড়া জীবিত মাছ, রেণু বা পোনা আমদানি করা যায় না (ধারা ৮)। অনুমোদনহীন "নতুন জাতের" পোনা কিনবেন না।
ওষুধ
এই আইনগুলোতে চাষির জন্য মাছে ব্যবহারযোগ্য ওষুধের তালিকা নেই। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না: আগে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। এই টুল ওষুধের মাত্রা দেয় না।
আইন পুরোটা পড়ুন bdlaws.minlaw.gov.bd-তে। এটা সংক্ষিপ্ত সারাংশ, আইনি পরামর্শ নয়।
কৃষকেরা যা জিজ্ঞেস করেন
মাছকে প্রতিদিন কত খাবার দেব?
এটা নির্ভর করে মোট মাছের ওজন ও প্রতিটি মাছ কত বড় তার ওপর। ছোট মাছ নিজের ওজনের বড় অংশ (১০–১৫%) খায়, বড় মাছ ছোট অংশ (২–৩%)। উপরে মাছের সংখ্যা ও গড় ওজন লিখলে আজকের পরিমাণ পাবেন।
মাছের গড় ওজন কীভাবে জানব?
জাল দিয়ে ১০টি বা বেশি মাছ ধরে একসাথে মাপুন, তারপর যতটি মেপেছেন তা দিয়ে ভাগ করুন। 'কয়েকটি মাছ একসাথে মেপে দেখুন' ঘরে টুলটি ভাগ করে দেবে। প্রতি ১৪ দিনে করুন।
শীতে কেন খাবার কম লাগে?
ঠান্ডা পানিতে মাছ কম খায়। ১৮–২১° সে.-এ গরম পানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আর ১৮° সে.-এর নিচে প্রায় অর্ধেক। টুলে পানির তাপমাত্রা বাছুন।
FCR কী?
FCR মানে ১ কেজি মাছ বাড়াতে কত কেজি খাবার লেগেছে। ৯০০ কেজি খাবার দিয়ে মাছ ৬০০ কেজি বাড়লে FCR ১.৫। FCR বেশি মানে খাবার নষ্ট হচ্ছে, আর খাবারই মাছ চাষের সবচেয়ে বড় খরচ।
এই সংখ্যাগুলো কি ভরসা করা যায়?
যেখানে সরকার সংখ্যা দিয়েছে (হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাছ চাষের পাতা, যা মৎস্য অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুসরণ করে) সেখানে আমরা তাই নিয়েছি ও বলে দিয়েছি। তেলাপিয়া ও পাঙ্গাসের খাবারের হার প্রকাশিত টেবিল থেকে। বাকিগুলো বাংলাদেশের গবেষণা থেকে, আর টুল তা বলে। বিএআরসির সার গাইডের মতো মাছের উপকরণের কোনো জাতীয় টেবিল নেই, আর মৎস্য অধিদপ্তরের পরামর্শপত্রের বেশির ভাগ ঘর ফাঁকা, তাই দাম আপনি নিজে লেখেন। প্রতিটি সূত্র পেজে দেওয়া আছে।
এটা কি বিনামূল্যে? লগইন লাগবে?
এটা বিনামূল্যে, কোনো লগইন লাগে না। যা লেখেন তা আপনার ফোনেই থাকে।
সূত্র
প্রতিটি হার ও মজুদের সংখ্যা এই সূত্রগুলোর একটি থেকে নেওয়া।
- Bangladesh Haor and Wetland Development Department: fish farming guidance (পুকুর প্রস্তুতি, মজুদ, খাদ্য), page updated 2016, follows Department of Fisheries advice
- FAO: carp polyculture in South Asia, supplementary feed 2–5% of body weight a day
- FAO: Manual on polyculture and integrated fish farming in Bangladesh (home-made carp feed, lime, manuring)
- Department of Fisheries: fish farming advisory forms (পরামর্শপত্র) for carp, pangas, tilapia, shing, koi and magur
- FAO AFFRIS: Table 24, feeding table for tilapia on formulated feed in semi-intensive ponds
- Monosex GIFT tilapia monoculture at 200, 400 and 600 fish per decimal (110 days)
- Sayeed et al., Khulna University: Thai pangus and rohu in polyculture, feeding table by fish weight
- Shofiquzzoha, Halim & Islam (2019), Bangladesh Journal of Fisheries 30(2): Vietnamese climbing perch (koi) at farm level in Jashore
- Journal of Fisheries (Bangladesh): feeding frequency of Clarias batrachus, 8% of body weight falling to 5%, 16,750 fingerlings per hectare
- Stocking density of Heteropneustes fossilis in seasonal ponds of Rajshahi (240, 280 and 320 per decimal)
- FAO: Appendix XIII, feeding tables (channel catfish rates at 15–30 °C)
- FAO: lime a pond when pH is below 6.5 or alkalinity below 75 mg/L
- Fish Feed and Animal Feed Act 2010 (মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০)
- Fish Hatchery Act 2010 (মৎস্য হ্যাচারি আইন, ২০১০)